#পিরিয়ড স্যারকে যখন বললাম ,আমি অসুস্থ

#পিরিয়ড
স্যারকে যখন বললাম ,আমি অসুস্থ ।তখন তিনি আমার কথা হাওয়ায় উড়িয়ে দিলেন ।এমন পরিস্থিতিতে আমি কখনোই পড়িনি ।আজ পড়তে হলো ,,তাও ক্লাসের সবার সমানে ।আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না ।দ্বীতিয় বার যখন কোনো রকম নিজেকে সামলে দাড়ালাম তখন হয়তো আমার জামার পিছনে রক্তের দাগ গুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো ।ক্লাসের প্রায় অর্ধেক ছেলেই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করলো ।স্যারকে যখন বললাম,,
--স্যার,আমার ছুটি টা লাগবেই,,।আমি সত্যিই অসুস্থ ,,,,
স্যার আমার কথায় একদম রেগেই গেলেন ।তিনি আমাকে এক ধমকে বসিয়ে দিলেন ।আমি ভয় শুধু কাপছিলাম ।কিছু ই বুঝতে পারছিলাম না ।পাশের বান্ধুবিকে বলতে যাবো তার আগেই স্যার দেখে ফেলে আমাকে ।তিনি ক্লাস থেকে বেড় করে দেন আমাকে ।আমি নিজের সিট এই নিরবে কান্না করছিলাম ।পিছন থেকে ছেলেরা হাসতেছিলো ।স্যার যখন রেগে আমার কাছে আসছিলো কারন আমি ক্লাস থেকে বেড় হইনি তাই তখন ই একটা স্যার এর ফোন এ একটা কল আসে ।তিনি ফোন টা বের করে ক্লাস এর বাহিরে যান কথা বলতে তখন ই হাসাহসির উল্লকশে মেতে উঠে ছেলেরা ।বান্ধুবিরাও যেনো তখন পর হয়ে গেছে ।দূর থেকে কেউ একজন বলছিলো,,,
--দোস্ত,মেয়েটার কি হইছে রে?জামা ভিজলো কেমনে ?
কিছুক্ষন এর মাঝেই স্যার রুমে ঢুকেন ।তিনি দেখেন তখনও কান্না করছি ।তিনি রাগে এসে বেত নিয়ে মারতে শুরু করবেন তখন ই আমাদের ক্লাসের বখাটেদের একজন রাফি জানালো,সবাইকে প্রিন্সিপাল নিচে ডাকছে ।স্যার তাড়াহুড়ো করে সবাইকে বেড় করে দেন ।তবুও আমি জায়গা হতে উঠিনি ।ছেলেরা যাওয়ার সময় অনেক বাজে কথা বলে গিয়েছিলো ।আমি একা একা ই বসে ছিলাম আর কান্না করছিলাম ।হঠাৎ সেই বখাটে রাফি কে দেখে ভয় আরো বেড়ে গেলো ।সাথে দেখলাম সেই স্যার এর মেয়েও ।আমার থেকে এক ক্লাস উপরে পড়ে ।কিছু না বলেই চলে যায় রাফি ।সকল ছাত্রকে কেনো ডাকা হয়েছে তা ও বুঝতে পারিনি ।এরপর স্যার এর মেয়েই আমাকে ন্যাপকিন দিয়ে সাহায্য করে ।আর আমাকে বাসায় পৌছে দেয় ।এরপরের দিন কলেজ এ গিয়ে দেখি সবাই উপস্থিত ।সবার সামনে কান ধরে দাড়িয়ে আছে রাফি ।গতকালকে সবাইকে মিথ্যা কথা বলে নিচে গিয়েছিলো রাফি ।যাতে সকলের আড়ালে আমার সম্মানটা বাচে ।স্যার এর মেয়ে আমাকে আড়ালে ডাকলো ।দেখালাম সেখানে স্যারও আছেন ।স্যার মাথা নিচু করে বললেন। ।আমি তোর উপর অনেক অন্যায় করেছি ,আমি একদম ই বুঝিনি যে এমন হবে ।যেটা আমাদের সবার করা প্রয়োজন সেটা করিনি ।এই রাফি ই সাহায্য করেছে ।কালকে মিথ্যা বলে মাঠে নিয়ে গিয়েছিলো ,তাই প্রিন্সিপাল এর কাছে নালিশ করেছি ।তিনি রাফিকে কলেজ থেকে বের করে দিবেন ।আমার মেয়ে সব খুলে বলেছে আমার ভুল হয়েছে,,
স্যার এর কথা শেষ হলেই ক্লাসে আসি ।সবার সামনে রাফিকে টিসি দিয়ে দিছেন ।রাফির শেষ অনুরোধ ছিলো শেষ আজকের ক্লাস টা করে যাওয়া ।স্যার দিয়েছেনও তাই ।ক্লাসে ভাবতে থাকলাম,সমাজে এখনো কিছু ভালো ছেলে আছে ।তাদের কারনেই হয়তো কত বড় অপমান হতে বেচে গিয়েছি ।ক্লাস শেষ হলে রাফিকে দেখলাম,সে একগাল হাসি নিয়ে বললো,,
--এই কলেজটা ভালো না ছেড়ে দাও,,অন্য কোনো কলেজ এ ভর্তি হও ভালো হবে,,
--আচ্ছা একটা কথা বলি?(আমি)
--কি?
--তুমি এমন থাকো কেনো ?বখাটে দের মতো ?ভালো করে পড়া লেখা করলে তো আর এমন হতো না,,।আর আমার জন্য ই আজকে কলেজ থেকে তোমাকে বের করে দিলো,,
--আরে না না,,,তোমার তো দোষ নেই ।দোষ তো তাদের যারা তোমাদের বুঝে না ।আর ভালো রিজাল্ট করতে ভালো ভাবে পড়তে হয় এর জন্য প্রাইভেট পড়া প্রয়োজন এত টাকা আমার নেই ।আমার পরিবারের করোরি নেই,,,
এই কথা বলেই চলে যায় রাফি ।এরপর আমিও সেই কলেজ পরিবর্তন করি ।আর কখনই দেখা হয় না রাফির সাথে আমার ।অনেক খুজে কখনই পাইনি রাফিকে ।আমরা কত কিছুই ভাবি অথচ তার সবটাই ভুল ।কিন্তু চলে যাওয়া মুহূর্তে আমার দিকে তাকিয়ে যে তার এক হাসি সেটা আজও ভুলিনি ।
""সমাপ্ত""
#লেখক:ঐ❤

কোন মন্তব্য নেই

i love my mather

ঠোঁটের তিল’টা

– আমার ঠোঁটের উপরের তিল টা দেখেছেন? পাত্রী দেখতে এসে পাত্রীর মুখে এমন অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে আমার সামনে বসে থাকা ভদ্রলোক যে বেশ অবাক হয়েছে...

Blogger দ্বারা পরিচালিত.